
10 mins read
দৈনিক বিক্রি ও খরচের হিসাব কীভাবে রাখবেন?
প্রতিদিনের বিক্রি, খরচ, বাকি ও ক্যাশের হিসাব কীভাবে রাখবেন জানুন। ছোট ব্যবসা ও দোকানের জন্য সহজ নিয়ম
9 mins read Published on October 6, 2026

আজ মাল এল, কিছু টাকা দিলেন, বাকি টাকা আগামী সপ্তাহে দেওয়ার কথা। এর মধ্যে একই supplier-এর কাছ থেকে আবার মাল কিনলেন। এখন তাঁকে ঠিক কত টাকা দিতে হবে? শুধু মোট কেনাকাটা থেকে মোট payment বাদ দিলে অনেক সময় হিসাব মেলে না। কারণ মাঝখানে পণ্য ফেরত, discount, advance বা একটি payment দিয়ে একাধিক bill মেটানোর ঘটনা থাকতে পারে।
সংক্ষেপে নিয়ম: প্রতিটি supplier-এর জন্য আলাদা ledger খুলুন। সেখানে আগের বাকি, প্রতিটি invoice-এর নেট মূল্য, payment, অনুমোদিত return বা discount এবং advance আলাদা লিখুন। সাধারণ হিসাবে বর্তমান দেনা = আগের দেনা + নতুন বাকিতে ক্রয় − পরিশোধ − নিশ্চিতভাবে সমন্বিত ফেরত/discount। কোন bill-এর টাকা কবে দিতে হবে, সেটিও invoice অনুযায়ী দেখুন।
Supplier-এর বাকি হলো পণ্য বা সেবা নেওয়ার পর যে টাকা এখনও সরবরাহকারীকে দেওয়া হয়নি। ব্যবসার হিসাবে এটি দেনা বা payable। আর গ্রাহকের কাছ থেকে আপনার যে টাকা পাওয়ার কথা, সেটি আলাদা পাওনা বা receivable। দুটি এক খাতায় মিশিয়ে ফেললে হাতে থাকা টাকার ভুল ধারণা তৈরি হয়। ব্যবসার অন্য হিসাবগুলো কীভাবে একসঙ্গে সাজাবেন, তা জানতে ব্যবসার হিসাব রাখার সম্পূর্ণ গাইড দেখুন।
ধরুন, ৳২৫,০০০ টাকার মাল কিনে ৳১০,০০০ দিলেন। ওই invoice-এর বাকি ৳১৫,০০০। পরে আরও ৳৮,০০০ টাকার মাল সম্পূর্ণ বাকিতে নিলে, মাঝখানে আর কোনো payment বা adjustment না হলে ওই supplier-কে মোট দিতে হবে ৳২৩,০০০।
পুরোনো খাতা, bill, bank statement এবং supplier-এর দেওয়া হিসাব মিলিয়ে শুরুর বাকি (opening balance) ঠিক করুন। আগের বাকি নিশ্চিত না হলে অনুমান করে সংখ্যা বসাবেন না; disputed অংশ আলাদা চিহ্নিত করুন। এরপর প্রত্যেক supplier-এর জন্য নিচের তথ্য রাখুন:
তথ্য | কেন দরকার |
Supplier-এর নাম ও যোগাযোগ | একই নামের ভিন্ন supplier চিনতে |
Invoice বা চালান নম্বর ও তারিখ | কোন কেনাকাটার টাকা বাকি, তা বুঝতে |
পণ্যের পরিমাণ ও নেট bill | ক্রয় ও stock মিলাতে |
কত টাকা সঙ্গে সঙ্গে দেওয়া হয়েছে | invoice-এর প্রাথমিক বাকি বের করতে |
পরের payment-এর তারিখ, অঙ্ক ও মাধ্যম | cash, bank বা mobile payment যাচাই করতে |
Due date | কোন bill আগে পরিশোধ করতে হবে, তা জানতে |
Return, discount বা credit note-এর প্রমাণ | অনুমোদিত সমন্বয় ঠিকভাবে করতে |
বর্তমান balance | supplier-কে মোট কত দিতে হবে, তা দেখতে |
Bill-এর ছবি বা কপি এবং payment receipt একই reference-এ রাখুন। এতে মাস শেষে supplier-এর statement-এর সঙ্গে নিজের হিসাব মিলাতে সুবিধা হয়।
একটি supplier-এর হিসাব অন্যজনের সঙ্গে মেশাবেন না। খাতা, Excel বা হিসাব রাখার app—যে মাধ্যমই ব্যবহার করুন, supplier-এর নামের অধীনে তারিখ অনুযায়ী সব লেনদেন রাখুন। পুরোনো দেনা থাকলে প্রথম লাইনে opening balance লিখুন।
চালানে ১০০ পিস লেখা আছে, হাতে এল ৯৮ পিস—এ অবস্থায় bill ও বাস্তবে পাওয়া পণ্যের পার্থক্য চিহ্নিত করুন। Supplier-এর সঙ্গে সংশোধিত invoice বা adjustment নিশ্চিত করে তবেই final payable ঠিক করুন। প্রতিটি নতুন ক্রয়ের জন্য invoice number, নেট অঙ্ক এবং due date লিখুন। একই সঙ্গে stock update করুন; শুধু দেনার খাতায় ক্রয় লিখলে পণ্যের হিসাব মিলবে না। মুদি দোকানের ক্ষেত্রে purchase, stock ও দেনা একসঙ্গে কীভাবে দেখতে হয়, তা মুদি দোকানের হিসাব রাখার গাইডে উদাহরণসহ আছে।
৳২০,০০০ টাকার bill-এর বিপরীতে আজ ৳৭,০০০ দিলে ওই bill-এর বাকি ৳১৩,০০০। পরে আরও ৳৫,০০০ দিলে থাকবে ৳৮,০০০। Payment-এর পাশে কোন invoice-এর জন্য দিয়েছেন, তা লিখুন। একটি payment একাধিক bill-এ ভাগ হলে প্রতিটি bill-এ কত টাকা সমন্বয় হয়েছে, আলাদা দেখান। এতে পুরোনো bill ভুল করে overdue হিসেবে দেখা বা একই payment দুবার বাদ যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
পণ্য ফেরত পাঠালেই নিজের মতো করে দেনা কমাবেন না। Supplier ফেরত গ্রহণ করেছেন এবং refund বা credit note কীভাবে দেবেন, তা নিশ্চিত হলে সংশ্লিষ্ট invoice বা ledger-এ সমন্বয় করুন। কেনার সময় দেওয়া discount bill-এর নেট অঙ্কে রাখুন; পরে পাওয়া discount আলাদা adjustment হিসেবে রাখুন। একই discount দুবার বাদ দেবেন না।
আগাম টাকা দিলে, কিন্তু এখনও মাল বা invoice না এলে সেটি supplier advance হিসেবে আলাদা রাখুন। পরে নতুন bill-এর সঙ্গে সমন্বয়ের সময় সেই advance ওই bill-এ প্রয়োগ করুন। Advance দেওয়ার দিনটিকে নতুন ক্রয় হিসেবে লিখবেন না।
সপ্তাহে অন্তত একবার দেখুন, কোন invoice এই সপ্তাহে দিতে হবে এবং কোনটি মেয়াদ পেরিয়েছে। মাস শেষে supplier-এর পাঠানো statement, নিজের ledger ও payment proof মিলান। পার্থক্য থাকলে invoice number ধরে missing purchase, দ্বিগুণ entry, return বা অমিল payment খুঁজুন। পুরো ব্যবসার মাসিক review-এর জন্য মাস শেষে হিসাব মেলানোর checklist কাজে লাগবে।
ধরুন, সেপ্টেম্বরের শুরুতে রহমান ট্রেডার্স-কে আপনার বাকি ছিল ৳৫,০০০। এরপর নিচের লেনদেন হলো:
তারিখ | লেনদেন | দেনা বাড়ল | দেনা কমল | চলতি দেনা |
১ সেপ্টেম্বর | আগের বাকি | ৳৫,০০০ | — | ৳৫,০০০ |
৩ সেপ্টেম্বর | Invoice R-101, বাকিতে ক্রয় | ৳২০,০০০ | — | ৳২৫,০০০ |
৬ সেপ্টেম্বর | Bank-এ payment | — | ৳৮,০০০ | ৳১৭,০০০ |
১০ সেপ্টেম্বর | Invoice R-102, বাকিতে ক্রয় | ৳১২,০০০ | — | ৳২৯,০০০ |
১২ সেপ্টেম্বর | R-101-এর পণ্য ফেরত; credit note নিশ্চিত | — | ৳২,০০০ | ৳২৭,০০০ |
১৬ সেপ্টেম্বর | Mobile payment | — | ৳৭,০০০ | ৳২০,০০০ |
হিসাব: ৳৫,০০০ + ৳২০,০০০ + ৳১২,০০০ − ৳৮,০০০ − ৳২,০০০ − ৳৭,০০০ = ৳২০,০০০ বাকি। এখানে payment ও ফেরত দেনা কমিয়েছে; এগুলো নতুন ব্যবসায়িক খরচ নয়। কোন invoice-এ কত বাকি, জানতে payment ও credit note ওই invoice-গুলোতে আলাদাভাবে allocate করতে হবে।
মোট দেনা জানা জরুরি, কিন্তু কবে কত টাকা লাগবে তা জানা আরও জরুরি। একটি ছোট payment plan রাখুন:
Invoice | অবশিষ্ট টাকা | Due date | অবস্থা |
R-101 | ৳৬,০০০ | ২০ সেপ্টেম্বর | আগে পরিশোধ |
R-102 | ৳৯,০০০ | ৩০ সেপ্টেম্বর | এই মাসে দিতে হবে |
পুরোনো সমন্বয় | ৳৫,০০০ | supplier-এর সঙ্গে নিশ্চিত করুন | যাচাই বাকি |
উপরের bill-ভিত্তিক বণ্টন কেবল বোঝানোর উদাহরণ; আপনার payment কোন invoice-এ প্রয়োগ হয়েছে, তা receipt বা supplier-এর সঙ্গে মিলিয়ে ঠিক করুন। Due date অনুযায়ী cash reserve রাখলে stock কিনতে গিয়ে হঠাৎ payment সংকটে পড়ার আশঙ্কা কমে। এ বিষয়ে ব্যবসায় cash flow কমে যাওয়ার কারণ ও করণীয় পড়তে পারেন।
লেনদেন কম হলে supplier-ভিত্তিক খাতায় তারিখ, bill, টাকা দেওয়া ও বাকি লিখে শুরু করা যায়। Excel-এ আলাদা supplier sheet বা একটি transaction table রেখে মোট বের করা যায়; formula এবং payment allocation নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। অনেক supplier, বারবার আংশিক payment এবং stock থাকলে app-এ party ও purchase record এক জায়গায় রাখা সুবিধাজনক। মাধ্যম বাছাইয়ের তুলনা খাতা নাকি হিসাব রাখার app লেখায় আছে।
Karbar App-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী এতে purchase record, customer ও supplier party management, inventory tracking এবং business report দেখা যায়। Supplier setup ও entry-র বর্তমান ধাপ জানতে Karbar-এর টিউটোরিয়াল দেখুন। আপনার খাতার opening balance আগে মিলিয়ে তারপর digital হিসাব শুরু করলে পুরোনো অমিল নতুন হিসাবেও চলে আসবে না।
একই bill দুবার লেখা: invoice number দিয়ে duplicate যাচাই করুন।
পুরোনো payment-কে নতুন purchase-এর খরচ ধরা: payment শুধু দেনা ও cash কমায়; একই কেনাকাটার খরচ আবার তৈরি করে না।
Return পাঠিয়েই balance কমানো: supplier-এর confirmation বা credit note রাখুন।
Advance-কে payment ও purchase দুই জায়গায় ভুলভাবে যোগ করা: advance আলাদা রেখে পরে bill-এ একবার সমন্বয় করুন।
ক্যাশে payment দিয়ে receipt না রাখা: supplier-এর statement-এর সঙ্গে অমিল হলে প্রমাণ পাওয়া কঠিন হয়।
শুধু মোট balance দেখা: invoice-wise due date না রাখলে কোন bill overdue, বোঝা যায় না।
Supplier-এর বাকি আর customer-এর বাকি মেশানো: একটি payable, অন্যটি receivable।
প্রতিদিন নতুন purchase ও payment সঙ্গে সঙ্গে লিখুন। সপ্তাহে due date দেখুন, মাসে অন্তত একবার supplier-এর হিসাব মিলান। ডিলারশিপে company invoice, claim ও credit note আরও বেশি থাকে; সে ক্ষেত্রে ডিলারশিপ ব্যবসার হিসাব রাখার নিয়ম দেখুন।
Supplier-এর বাকি হিসাব ঠিক রাখতে তিনটি প্রশ্নের উত্তর হাতের কাছে রাখুন: কোন bill-এর কত টাকা বাকি, কবে দিতে হবে এবং কোন payment বা return দিয়ে সেটি সমন্বয় হয়েছে? Supplier-ভিত্তিক ledger খুলে invoice, receipt ও credit note ধরে entry করলে এই তিনটির উত্তর পাওয়া সহজ হয়। আজই আগের বাকি মিলিয়ে শুরু করুন; এরপর প্রতিটি নতুন লেনদেন ঘটার দিনেই লিখুন।
আগের দেনার সঙ্গে নতুন বাকিতে ক্রয় যোগ করুন। তারপর দেওয়া payment ও supplier-এর নিশ্চিত করা return বা discount বাদ দিন। Advance থাকলে কোন bill-এ তা সমন্বয় হয়েছে, আলাদা দেখুন।
Payment-এর তারিখ, অঙ্ক, মাধ্যম, receipt reference ও সংশ্লিষ্ট invoice number লিখুন। ওই invoice-এর অবশিষ্ট দেনা কমান। একাধিক bill-এর জন্য একটি payment দিলে bill-ভিত্তিক ভাগ করে রাখুন।
আগে আলাদা advance হিসেবে রাখুন। নির্দিষ্ট bill-এর বিপরীতে supplier-এর সঙ্গে সমন্বয় নিশ্চিত হলে ওই bill-এর payable থেকে বাদ দিন। এতে advance কোথায় ব্যবহার হয়েছে, বোঝা যায়।
ফেরত গ্রহণ ও refund বা credit note-এর অঙ্ক supplier নিশ্চিত করলে সংশ্লিষ্ট bill বা ledger-এ কমান। বিরোধ বা অনুমোদন বাকি থাকলে pending return হিসেবে আলাদা রাখুন।
Purchase ও payment ঘটার দিনেই লিখুন। সপ্তাহে due date এবং মাসে অন্তত একবার supplier statement-এর সঙ্গে invoice, receipt ও adjustment মিলিয়ে দেখুন। লেনদেন বেশি হলে আরও ঘন ঘন মিলান।
Share this article:

10 mins read
প্রতিদিনের বিক্রি, খরচ, বাকি ও ক্যাশের হিসাব কীভাবে রাখবেন জানুন। ছোট ব্যবসা ও দোকানের জন্য সহজ নিয়ম

14 mins read
ব্যবসার হিসাব খাতায় রাখবেন নাকি অ্যাপে? খাতা ও হিসাব রাখার অ্যাপের সুবিধা, অসুবিধা, খরচ, নিরাপত্তা ও

11 mins read
ছোট ব্যবসার বিক্রি, খরচ, বাকি, স্টক ও লাভ-ক্ষতির হিসাব কীভাবে রাখবেন জানুন। সহজ নিয়ম ও বাস্তব উদাহরণ